দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এক সংযোগ সেতু – প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।।  নদীর দুই তীরের মানুষদের অবাধ চলাফেরা-মেলামেশা করতে একটি সেতু যেভাবে কাজ করে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশও দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে তেমনই এক সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন যৌথ আয়োজনে সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’র উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত এই মূলনীতিই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি। জাতির পিতার প্রদর্শিত এই পথে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনেও অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান হওয়া উচিত। আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য শান্তি ও সম্প্রীতি জরুরি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দমন-পীড়নের মুখে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এই রোহিঙ্গারা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এই হুমকির তাৎপর্য অনুধাবনের মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা।
তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমরা তাদের (মিয়ানমার) সাথে ঝগড়া করছি না। বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই সমস্যার আশু সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী থাকলে সমস্যা থাকবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব। আমরা ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময় করেছি। যা বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর এলাকাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই দুই সাগর মহাসগরকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক আর্থ সামাজিক বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। দারিদ্রকে সকল দেশের প্রধান শত্র উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দারিদ্র দূর করা সহজেই সম্ভব।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ড. সমির শরণ, বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমানও বক্তব্য রাখেন।