শৈত্যপ্রবাহ শুরু, বাড়বে শীতের তীব্রতা

প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। মৃদু বাতাস বইছে, সেই সাথে ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। কুয়াশার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এদিকে, কয়েকদিন ধরে উত্তরের জনপদে সূর্যের দেখা মিলছে না।

উত্তরের জেলাগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সেই সাথে কমছে তাপমাত্রা। চুয়াডাঙ্গায় বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় উত্তরের হিমপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক চার ডিগ্রী সেলসিয়াস।

পঞ্জিকার পাতায় পৌষের দিনলিপি শুরু না হলেও প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। রাজধানীতেও ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। গভীর রাতে বিভিন্ন অলি-গলিতে কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল বাসে বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। প্রধান সড়কে ধীরগতিতে চলে যানবাহন। শীতকে উপেক্ষা রাতের আধারে জীবিকার তাগিদে বের হন খেটে খাওয়া মানুষ।

মৃদু বাতাসের সাথে ভোররাত থেকে ঘন কুয়াশার বেশ বেলা পর্যন্ত চাদরে ঢেকে থাকছে উত্তরের জনপদ। জয়পুরহাটে ঘন কুয়াশা আর শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি।

লালমনিরহাটে শীতের প্রকোপে শিশু ও বৃদ্ধরা জ¦র, সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নওগাঁয় গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে।

মাগুরায়ও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হাসপাতাল গুলোতে বেড়েছে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উত্তর জনপদে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে, উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে কুয়াশার কারণে দিনের বেলা হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ যানবাহন। প্রবল শীতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় কারণে কষ্ট বেড়েছে শ্রমজীবী মানুষের। খড়কুটা জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন তারা।

কয়েকজন গ্রামীণ নারী জানান, কুয়াশা না থাকলেও খুব ঠান্ডা। রাতে বৃষ্টির ফোটার মতো শিশির ঝরা শব্দ শোনা যায়। ঘরের মেঝে থেকে শুরু করে আসবাবপত্র ও বিছানা পর্যন্ত বরফ হয়ে উঠে। সকালে গৃহস্থালি করতে গিয়ে কনকনে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে।

চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা জানান, কুয়াশা নেই। তবে কনকনে শীত। ভোরে প্রচণ্ড হিম শীতের মধ্যেই তারা চা বাগানে পাতা তুলতে এসে হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। কিন্তু কী করবো, জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। একই কথা বলেন নদীতে পাথর তুলতে যাওয়া শ্রমিকরা।

এদিকে শীতের কারণে বাড়তে শুরু করে বিভিন্ন শীতজনিত রোগ-ব্যাধি। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগী বাড়তে শুরু করেছে। চিকিৎসকরা চিকিৎসকরা পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, গতকাল থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে আজ বুধবার সকাল ৯টায় এ জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রেকর্ড হয়েছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির মধ্যে রেকর্ড হচ্ছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলটি হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের নিকটস্থ হওয়ায় শীত অনুভূত হচ্ছে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে বলে তিনি জানান।