রাতের তাপমাত্রা আরও কমবে, বাড়বে শীত

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা আরও কমে শীত বাড়বে। আবহাওয়া অফিস বলছে, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা না থাকলেও আগামীকাল বুধবার থেকে দেশের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা যেতে পারে। এদিকে ঘন কুয়াশায় ছেয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। সেই সঙ্গে বাতাস থাকায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশ। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট, আজিমপুর, তেঁজগাও, মহাখালীসহ এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। এসব এলাকায় কুয়াশার আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, বুধবার থেকে শীতের তীব্রতা বাড়বে। তবে এখনই আপাতত শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ডিসেম্বরের শেষে শৈত্যপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা নামতে পারে ১০ ডিগ্রির নিচে। এল নিনো সক্রিয় থাকায় সামগ্রিকভাবে এবার শীতের প্রকোপ কিছুটা কম হতে পারে।

সারা দেশের পাশাপাশি গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা গেছে কুয়াশা। এই কুয়াশা আরও বাড়বে। আর মাসের শেষে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।

আজ মঙ্গলবার ভোরেও কুয়াশার প্রাদুর্ভাব ছিল। মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছীতে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ৩০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘন কুয়াশার কারণে একটু দূরের বস্তুও দৃশ্যমান হচ্ছিল না। এসময় যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে চলতে দেখা গেছে। বহুতল ভবনগুলোকে মনে হচ্ছিল মেঘে ঢাকা আবছা কোনো কিছু।

এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সাড়ে ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুয়াশা কেটে গেলে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

এর আগে, ঘন কুয়াশায় নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে রাত ১২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সে সময় মাঝ নদীতে আটকা পড়ে একটি ফেরি। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে চালক ও যাত্রীরা।

যাত্রীরা জানায়, কুয়াশার কারণে গাড়িতে বসে গন্তব্যে পৌঁছাতে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১২টায় ঘন কুয়াশায় নদী পথ অস্পষ্ট হয়ে গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় কিছু যানবাহন আটকা পড়ে। এতে করে শীতে দুর্ভোগে পড়ে চালক ও যাত্রীরা। কুয়াশা কেটে গেলে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এই রুটে ছোট বড় মিলে ১৭টি ফেরি রয়েছে।