রাঙ্গার আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ রাজ্জাক-রিজভী’র; রাঙ্গার দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

নয়াদেশ রিপোর্ট।।   এরশাদের শাসনামলে শ্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ নূর হোসেন একজন ‘মাদকাসক্ত’ ছিলেন বলে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা যে মন্তব্য করেছেন সে মন্তব্যের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীতে পৃথক স্থান ও সময়ে তারা এসব প্রতিবাদ জানান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটা হয়েছে বার বার বাংলাদেশে এবং এই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী এবং সামরিক স্বৈরাচাররা এসেছে এবং তারা এসে রাজনীতিতে দুর্বৃত্ত ও ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে কলুষিত করেছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফলেই বাংলাদেশে রাজনীতি কলুষিত হয়েছে। আদর্শের রাজনীতি থেকে আমরা অনেকই দূরে সরে গিয়েছি। যারা এ ধরনের মন্তব্য করে আমি মনে করি তারা অনেকেই স্বৈরাচারের সাথে জড়িত ছিল এবং রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের সাথেও জড়িত ছিল। সেই মানসিকতা থেকেই এই ধরনের মন্তব্য আসতে পারে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের আকাঙ্খা যে কত তীব্র ও দৃঢ় ছিল নূর হোসেন তার প্রকৃত উদাহরণ। তার মতো একটি ছেলে তেমন শিক্ষিত না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না, সে বুকে যেভাবে লিখে রেখেছিল- স্বৈরাচার নিপাত যাক/গণতন্ত্র মুক্তি পাক। সে দৃশ্যটি এখনও আমি যখন ভাবি আমি শিউরে উঠি যে, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের ত্যাগ কতো বড় এবং আমরা কতো সাহসের পরিচয় দিয়েছি, কতো ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি।

অপরদিকে, শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার মন্তব্যকে অশ্রাব্য আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি এ নিন্দা প্রকাশ করেন।
রিজভী বলেন, স্বৈরাচারের কুৎসিত আত্মা দিয়ে জাতীয় পার্টির সৃষ্টি বলেই রাঙ্গাদের মতো রাজনৈতিক ‘ভবঘুরেরা’ গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী নূর হোসেনের মতো শহীদদের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য কথা বলতে পারেন। এরা লুটপাটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ ও গণতন্ত্রের শত্রæ বলেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে পারেন।এদিকে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতিতে রাঙ্গা বলেন, নূর হোসেন প্রসঙ্গে আমার কিছু বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহল, বিশেষ করে তার পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর নূর হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠনের আলোচনা, বক্তব্য ও বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। এমনকি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিও করা হয়। এর ফলে জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার ব্যতিক্রম এবারও ঘটেনি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কর্মীদের উত্তেজনার মধ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার মুখ থেকে নূর হোসেন সম্পর্কে কিছু অযাচিত কথা বেরিয়ে যায়, যা নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের মনে আঘাত করেছে। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত। তিনি আরও বলেন, নূর হোসেনের পরিবারের প্রতি জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদও সমব্যাথী ছিলেন। অতএব, অসতর্কভাবে বলে ফেলা আমার বক্তব্যের জন্য আমি নূর হোসেনের মায়ের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সাথে আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আমি আশা করি এ বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে গণতন্ত্র দিবসের আলোচনা সভায় নূর হোসনকে ‘মাদকাসক্ত’ (ইয়াবা ও ফেনসিডিল খোর) বলে অভিহিত করেন মসিউর রহমান রাঙ্গা।