মিয়ানমারের অপপ্রচারে বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কড়া প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ।।   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অপ্রচার বন্ধ করার আহ্নবান জানায়। রোববার (২৪ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার অব্যাহত মনগড়া তথ্য দেয়া, তথ্যের অপব্যবহার, অসমর্থনযোগ্য দাবি এবং অযৌক্তিক অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের ওপর স্থানান্তর করতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং জন্মভূমিতে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে মিয়ানমার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সম্পূর্ণরূপে অসহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেয়। এমনকি তারা নৃশংসতায় জড়িতদের জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগেরও কড়া সমালোচনা করে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারে একের পর এক শাসন ব্যবস্থা দ্বারা নিয়মতান্ত্রিক বঞ্চনা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর নির্যাতনের জন্যেই হয়েছে এই সত্য প্রতিষ্ঠিত। যার সূত্রপাত মিয়ানমারে। আর সমাধানও করতে হবে তাদেরই।
বাংলাদেশের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করার কোনো আগ্রহ নেই। বরং দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ আন্তরিক।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে, অতীতে হতাশাব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা এবং আরও বড় চ্যালেঞ্জ থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশ পূণরায় মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জড়েত হয়েছে, প্রত্যাবাসনের সময় দু’টি অধ্যায় শেষ করেছে। দ্বিপক্ষীয় উপকরণ অনুসারে রাখাইনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা, সুরক্ষা, নাগরিকত্ব, চলাফেরার স্বাধীনতা, মৌলিক সেবা ও জীবিকা নির্বাহসহ মূল কারণগুলির মোকাবিলায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনরায় শুরু করতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় মিয়ানমারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রোহিঙ্গারা তাদের উৎস স্থান বা তাদের পছন্দের যেকোনো নিকটতম জায়গায় ফিরে যাক। তদুপরি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যথাযথ পদ্ধতিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে উৎসাহিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব মিয়ানমারের। দুর্ভাগ্যক্রমে মিয়ানমার তার দায়বদ্ধতা পালনের জন্য কোনো রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রদর্শন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমার মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোকের ফিরে যাওয়ার দাবি করছে, যা যাচাই করা হয়নি।