মাগুরায় রাতে ছাত্রীনিবাসে ঢুকে পড়ল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

নয়াদেশ রিপোর্ট, মাগুরা॥ মাগুরায় রাতের বেলা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্রীনিবাসে ঢুকে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম ফয়সাল রাব্বীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রী হোস্টেলের মেট্রনসহ  তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রী নিবাসের ১০৮ শিক্ষার্থী অধ্যক্ষকের কাছে অভিযোগ করে। তাৎক্ষণিকভাবে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ। জানা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধুদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রাব্বি। গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাব্বিসহ সাত থেকে আটজন ছাত্রীনিবাসের রান্নাঘরে ঢোকে। সে সময় এক ছাত্রীর নাম ধরে উচ্চস্বরে ডাকতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ছাত্রীরা বিষয়টি তাদের সুপারিনটেনডেন্টকে জানায়। তিনি বিষয়টি সদর থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় রাব্বিসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। এদিকে, অধ্যক্ষ বিষয়টি জানার পর ছাত্রলীগের সভাপতিকে রাতে ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ করতে দেওয়ার অভিযোগে মেট্রন নাসরিন আক্তার, বাবুর্চি রাজিয়া বেগম ও নাইটগার্ড আসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এ ছাড়া গার্ড জাকির হোসেন, সহকারী বাবুর্চি আয়শা বেগম ও সন্ধ্যা বেগমকে শোকজ করে
ছাত্রলীগ সভাপতি রাব্বীর নিযার্তনের শিকার এক ছাত্রী মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, রোববার রাতে রাব্বীসহ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছাত্রী হোস্টেলে ঢুকে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। হোস্টেলের সিঁড়িতে রাব্বী একটা মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার সময় বাধা দেওয়ায় তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তার সহযোগীরা। ওই ছাত্রলীগ নেতা প্রায় রাতেই হোস্টেলে ঢুকে মেয়েদের সঙ্গে জোরপূর্বক কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে। কিন্তু  ম্যাডাম (মেট্রন) নাসরীন আক্তার মেয়েদের চুপ থাকতে বলেন। ছাত্রলীগের ভয়ে সাধারণ ছাত্রীরা কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
অধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ বলেন, ছাত্রী নিবাসে মেয়েদের সঙ্গে রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগে ছাত্রীনিবাসের শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী রান্নার জন্য হোস্টেলের রান্নাঘরে গিয়েছিল। এ ছাড়া প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চার সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে যে লীগই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হোস্টেল সুপার উম্মে কুলসুম নাসরিন জানান, সন্ধ্যার পর মেয়েদের হোস্টেলের মূল গেটে তালা দেওয়া হয়। ফলে কারো ঢোকার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত রাব্বী মুঠোফোনে দাবি করেন, কয়েকজন ছেলে রান্নার জন্য গেলেও আমি ছাত্রী হোস্টেলে যাইনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে তখন দেখব পুনরায় তদন্ত করা যায় কি না। যদি সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণ হয় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।