বিমানবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

নয়াদেশ রিপোর্ট ।।  সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচলের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদ উড্ডয়নের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পেশাগত দক্ষতা ও সততার কোনো বিকল্প নেই। শুধু তাই নয়, এর সাথে দেশের মান-মর্যাদাও জড়িত।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সুরক্ষা সেমিনার-২০১৯ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বিমান ভ্রমণ নিরাপদ, আরামদায়ক ও সহজতর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আর সে কারণেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। এটা বাস্তবায়িত হলে এখন যে পরিমাণ যাত্রীসেবা দেয়া হচ্ছে, আগামীতে এর আড়াইগুণ বেশি অর্থাৎ বছরে প্রায় ১২ মিলিয়নের বেশি যাত্রীসেবা দেয়া সম্ভব হবে।
সেমিনারে বিমান বাহিনী ও বিমানে ভ্রমণে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন সরকার প্রধান বলেন, আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিমান ভ্রমণকে আরও সহজতর করবে। পৃথিবীর আরও অনেক দেশের সাথে নতুন নতুন রুট সৃষ্টিতে সহায়তার পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পের দ্রæত বিকাশও ঘটবে।
এ সময় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে আরও উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, গত প্রায় ১১ বছরে বিমানবহরে আমরা বোয়িং কোম্পানির চারটি অত্যাধুনিক ড্রিম লাইনারসহ মোট ১০টি বিমান সংযুক্ত করা হয়েছে। আরও দুটি ক্রয় করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, আমরা বিশ্বের সঙ্গে আকাশ পথের যোগাযোগও স্থাপন করতে চাই। আমরা আশা করি, নিউইয়র্ক, টরেন্টো, সিডনির মতো দূরবর্তী গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবো। এ ব্যাপারে আমরা আগ্রহী। এ লক্ষ্যে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে ক্যাটাগরি-১ এ উন্নতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন, অবতরণ নিশ্চিত করে যাচ্ছে। এতে আমাদের বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উন্নত যুদ্ধবিমান, র‌্যাডার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও বলেন, বিশ্বমানের এভিয়েশন শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা লালমনিরহাটে এ বছরের ২৮ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারো স্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যারোনোটিক্যাল সেন্টার স্থাপন করেছি। ভবিষ্যতে এ সেন্টারে যুদ্ধবিমানসহ ব্যবহৃত বিমানও মেরামত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা রাখি।