বাবা ও চাচাকে গ্রেফতারের পর ৩ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

নয়াদেশ রিপোর্ট //  সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিশু তুহিনের নৃশংস ও বর্বোরচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুর মুছাব্বির এবং জমশেদ আলী সহ তিনজনের প্রত্যেককে তিনদিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামকান্ত সিনহা এ রায় দেন।
দিরাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তুহিন হত্যাকান্ডে পুলিশ আসামিদের পাঁচদিনের রিমান্ড চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরআগে, গত রোববার রাত ৩টার দিকে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউড়া গ্রামে তুহিন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। সোমবার ভোরে গাছের সাথে ঝুলানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্দারের সময় তুহিনের পেটের দুই পাশে দুটি ধারালো ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় ছিল। তার পুরো শরীর ছিল রক্তাক্ত। এছাড়া, কান ও লিঙ্গও ছিল কর্তন অবস্থায়। নিহত তুহিন ওই গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে।
অন্যদিকে শিশু তুহিনের পেটে বিদ্ধ দুটি ছুরিতে একই গ্রামের বাসিন্দা ছালাতুল ও সোলেমানের নাম পেয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে, তাদের ফাঁসাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটেছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কেজাউরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আনোয়ার হোসেনের সাথে নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধ চলছে। ছালাতুল ও সোলেমান সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের হয়ে কাজ করে। তাই হত্যাকান্ডের সাথে এর কোন সম্পর্ক রয়েছে কি-না তা মাথায় নিয়েই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
এরআগে, এ ঘটনায় তুহিনের বাবাসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, ইয়াছির উদ্দিন, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম, চাচি খাইরুল নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়া।