আবরারকে মারিনি, শুধু রুমে ডেকে এনেছি

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

নয়াদেশ রিপোর্ট॥ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণে আসামি এস এম নাজমুস সাদাতের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিকারীদের মধ্যে কয়েকজন এ আসামি জড়িত মর্মে নাম প্রকাশ করেছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান আসামি সাদাতের রিমান্ড প্রতিবেদনে এ কথা বলেছেন।

বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে  আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাতকে হাজির করে রিমান্ড প্রতিবেদনসহ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে আরো বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য এ আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এরপর রিমান্ড শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড শুনানির সময় একই কথা বলেন।  আসামি সাদাতের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

সাদাত বিচারককে বলেন, ‘আমি আবরারকে মারিনি। শুধু বড় ভাইদের কথায় আবরারকে রুমে (বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ) ডেকে এনেছি।’

শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদ আল মামুন ভুঁইয়া আসামি এ এস এম নাজমুস সাদাতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর অনুমতি দেন। এ এস এম নাজমুস সাদাত মামলার এজাহারভুক্ত ১৫ নম্বর আসামি।

এদিকে মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কাটলা বাজার এলাকা থেকে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নাজমুস সাদাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সাদাত পলাতক ছিলেন। তিনি দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে তাঁর ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পরের দিন ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১২ জনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন জবানবন্দি দিয়েছেন। এঁরা হলেন মামলার ৫ নম্বর আসামি বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ৭ নম্বর আসামি ও বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ৩ নম্বর আসামি ও বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ৯ নম্বর আসামি মুজাহিদুর রহমান, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক ও মামলার ৪ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান রবিন এবং মামলার ৬ নম্বর আসামি ও বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাহিত্য সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির।